![]() |
| শ্রীমদ্ভগবদগীতা সম্পর্কে কিছু কথা |
অত্যন্ত মহিমান্বিত মােক্ষদা একাদশীগীতিজয়ন্তী তিথিরূপে পালিত হয়। এ তিথিতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ভগীতার জান দান করেছিলেন। শ্রীমদ্ভগবত্যর জ্ঞান সমগ্র মানব সমাজের নিকট আলােকবর্তিকান্করূপ। এ স্তনের মাধ্যমে মানুষ নিজের স্বরূপ সম্পর্কে জানতে পারে। আমি কে? এ জগতে কেনই বা এলাম? আর আমার কর্তব্যই বা কী? এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে অর্জুনের মােহ উৎপাদন করে আমাদের নিমিত্ত দান করেছেন। যাতে আমরা এ দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ জীবন থেকে রেহাই পেয়ে শাশ্ত সুখ ও শান্তি লাভ করতে পারি। শ্রীমদ্ভগবদগীতার জ্ঞান অত্যন্ত গভীর। ভগবদ্গীতায় এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা আমাদের জন্য জানা অতটা প্রাসঙ্গিক। তাই গীতাজয়ঙ্কী উপলক্ষে শ্রীমদ্ভগবদগীতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই সংখ্যায় পরিবেশিত হলাে।
১. মহাভারতের ভীষ্মপর্বের ২৫ থেকে ৪২ন। অধ্যায়ের এ ১৮টি অধ্যায় হলাে ভগবদ্গীতা বা গীতোপনিষদ ।
২. গীতায় ৭০০টি শ্লোক আছে। তার মধ্যে ধৃতরাষ্ট্র বলেন ১টি শ্লোক, সপ্তয় বলেন ৪০টি শ্লোক, অর্জুন বলেন ৮৫টি শ্লোক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন ৫৭৪টি শ্লোক। আর পুরাে গীতায় ৯৫৮০টি সংস্কৃত শব্দ আছে।
৩, গীতার ১৮টি অধ্যায়ের মধ্যে প্রথম ৬টি অধ্যায়কে বলে কর্মষটক, মাঝখানের ৬টি অধ্যায়কে বলে ভক্তিষটক, আর বাকি ৬টি অধ্যায়কে বলে জ্ঞানষটক।
৪ভগবদ্গীতা ৫টি মূল বিষয়- ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কাল ও কর্ম।
৫. যদিও গীতার জান ৫০০০ বছর আগে।
বলা হয়েছিল কিন্তু ভগবান চতুর্থ অধ্যায়ে। বলেছেন যে এ জ্ঞান তিনি এর আগে বলেছেন, মহাভারতের শান্তিপর্বে (৩৪৮/৫২-৫২) গীতার ইতিহাস উল্লেখ আছে।
৬. চার প্রকার সুকৃতিবান ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে- আর্ত, অর্থার্থী , জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী। আর চার প্রকার দুষ্কৃতিকারীর কথা বলা হয়েছে মূঢ়, নরাধম, মায়া দ্বারা যার ভান অপহৃত হয়েছে ও অসুস্থভাব ব্যক্তি।
৭, বলা মাং এবং মামেব কথাটি বেশি আছে, যােগ শব্দটি আছে ৭৮ বার, যােগী আছে ২৮ বার আর যুক্ত আছে ৪৯ বার।
৮.গীতায় অর্জুন মােট ১৬টি প্রশ্ন করেন, আর শ্রীকৃষ্ণ তা ৫৭৪টি শ্লোকের মাধ্যমে উত্তর দেন।
৯. পুরাে গীতার সারমর্ম মাত্র ৪টি শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, ১০ অধ্যায়ের ৮ থেকে ১১ নং শ্রোক।
১০. পুরাে গীতায় অর্জুন ৪৫টি নামে কৃষ্ণাকে সম্বােধন করছেন, আর কৃষ্ণ অর্জুনকে ২১টি নামে সম্বোধন করেছেন।
১১. গীতায় ৩টি গুণ, ৩টি দুঃখ আর আমাদের ৪টি প্রধান সমস্যার কথা বলা হয়েছে।
১২. গীতায় ২৬টি গুণের কথা বলা হয়েছে, আর ৬টি আসুরিক প্রবৃত্তির কথা বলা হয়েছে।
১৩. নরকের ৩টি থাৱেৰ কথা কলা হয়েছে (কাম, ক্রোধ ও লোভ)।
১৪. গীতার ১৮ অধ্যায়ে ব্রাহ্মণের ৯টি গুণ
(শম, দম, তপ, শৌচ, ক্ষান্তি, সরলতা,
জ্ঞান, বিজ্ঞান ও অ্যান্ধিক্য); ক্ষত্রিয়ের ৭টি গুণ।
(শৌর্য, তেজ, ধৃতি, দক্ষতা, যুদ্ধে অপরাজ্মুখতা, দানশীলতা ও শাসনক্ষমতা), বৈশ্যের ৩টি গুণ (কৃষি, গােরক্ষা ও বাণিজ্য) আর শুদ্রের ১টি গুণ (উচ্চবর্ণের সমস্ত জীবের পরিচর্যা করা)।
১৫. জড়াপ্রকৃতির চটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে। (মাটি, জল, বায়ু, আগুন, আকাশ, ন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার)
১৬. ৩টি কর্মের প্রেরণা (জ্ঞান, জ্ঞেয় ও পরিজ্ঞাতা) আর ৩টি কর্মের আশ্রয়ের (কারণ, কর্ম ও কর্তা) কথা বলা আছে।
১৭. সত্ত্ব, রজো ও তমাে এ ৩ প্রকারের আহার, যজ্ঞ, তপস্যা, শ্ৰদ্ধা, পূজা ও দানের কথা বলা হয়েছে।
১৮, ব্ৰহ্ম উপলব্ধির ৫টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। অন্নময়, প্রাণময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় স্তর। জানময়,
ভাবীতা পাঠের মােগ্যতা
তত্ত্বজ্ঞ সদ্গুরুর শরণাগত হওয়া। (গীতা
২/৭)
যথার্ধ পরম্পরায় যুক্ত গুরুদেবের শরণাগত হয়ে তাঁর সেবার পাশাপাশি বিনয়ের সাথে তত্ত্বজিজ্ঞেস করা। (গীতা ৪/৩৪)
সম্পূর্ণরূপে পাপমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। (গীতা ৩/৩)
ভগবান শ্রীকৃষেবা তঞ্ত হওয়া। (গীতা 8/৩) শ্ৰদ্ধাবান, তৎপর ও সংযত হওয়া। (গীতা। ৪/৩৯)
সম্পূর্ণরুপে নির্মচ্চার হওয়া। (গীতা ৯/১)
নিয়মিত গীতা অধ্যয়নের ফল
# সমাপ্ত বৈদিক আনসহ গতর মঞ্চ 'তত্ব
জানা হয়ে যায়; আর কোনাে তত্ত্ব জানার বাকি থাকে না। (গীতা ৭/২)
# সম্পূর্ণভাবে মােহমুক্ত হওয়া যায়। (গীতা ১৮/৭২-৭৩)
# পাপ ও পূণ্য উভয় প্রকার কর্মের বন্ধন থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হওয়া যায়। (গীতা ৪/৩৬-৩৭)
# সংসারন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং প্রত্যক্ষ অনুভূতির দ্বারা আত্ম-উপলব্ধি লাভ করা যায়। (গীতা ৯/১-২)
# সৃষ্টিকালে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হবে না এবং প্রলয়কালে ব্যথিত হতে হবে না। (গীতা ১৪/২)
# ভগবানের নিত্যধাম লাভ করে নিতা চিন্ময় আনন্দ লাভ করা যায়। (গীতা ৪/৯)
# যিনি নিয়মিত গীতা অধ্যয়ন করেন, তাঁর সেই জ্ঞানযজ্ঞের দ্বারা আমি পূজিত হই। (গীতা ১৮/৭০)
# শ্রদ্ধাবান ও অসূয়ারহিত যে মানুষ গীতা। শ্রবণ করেন, তবে তিনি পাপমুক্ত হয়ে পুণ্যকর্মকারীদের শুভলােক প্রাপ্ত হন। (গীতা ১৮/৭১)
গীতা প্রচার করলে কী লাভ
# যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে এ পরম গোপনী গীতাৰাক্য উপদেশ দান করেন, তিনি অবশ্যই পরাভক্তি লাভ করে নিঃসন্দেহে। আমার কাছে ফিরে আসবেন। (গীতা
# এ পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে তাঁর মতাে আমার অধিক প্রিয়কারী আর কেউ নেই এবং তার চেয়ে আমার প্রিয়তা কেষ্ট হবে না । (গীতা ১৮/৬৯)
(সংগৃহীত)


0 Comments